প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘ইনভেস্টিং ১০১ : মাস্টারক্লাস’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বৃদ্ধি ও লংকাবাংলার যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাক্ষরতা ও বিনিয়োগ সচেতনতা বিষয়ক আয়োজন ।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘ইনভেস্টিং ১০১ : মাস্টারক্লাস’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বৃদ্ধি ও লংকাবাংলার যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাক্ষরতা ও বিনিয়োগ সচেতনতা বিষয়ক আয়োজন ।
ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘বৃদ্ধি’ ও ‘লংকাবাংলা’-র যৌথ উদ্যোগে এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টরেট অব স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার (ডিএসডব্লিউ)-এর সহযোগিতায় ২৭ জুন ২০২৬, শনিবার প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে ‘ইনভেস্টিং ১০১ : মাস্টারক্লাস’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সাক্ষরতা (ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি), ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা (পার্সোনাল ফাইন্যান্স) ও মানি ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন, যিনি বর্তমানে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশ ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের পরিচালক ও চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার জনাব মমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টরেট অব স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার (ডিএসডব্লিউ)-এর অ্যাডভাইজার সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুর রহিম। তিনি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাক্ষরতা, ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা ও মানি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠতে উৎসাহিত করেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এবং তিনি এ কর্মশালার তাৎপর্য তুলে ধরেন।
কর্মশালায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদিরের ভিডিও যোগে প্রেরিত শুভেচ্ছা বার্তা প্রচার করা হয়। তিনি এই বার্তায় ‘বৃদ্ধি’ ও ‘লংকাবাংলা’-র কর্মশালাটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, আর্থিক সাক্ষরতাও একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সফলতার অন্যতম ভিত্তি। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগ সম্পর্কে সচেতনতা তরুণ প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ‘বৃদ্ধি’ ও ‘লংকাবাংলা’-র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক আর্থিক জ্ঞান অর্জনের একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের কর্মশালা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনিয়োগ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করবে এবং দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে তাদের আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি ড. জামাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাক্ষরতার শিক্ষা ব্যক্তিজীবন থেকেই শুরু হওয়া উচিত। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি কীভাবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, সে-সম্পর্কে সকল স্তরে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। বৃদ্ধি মাইক্রো-ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে ঠিক এ লক্ষ্যেই ক্ষুদ্র পরিসরে কাজ করে যাচ্ছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সাক্ষরতা নিয়ে কাজ করাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।
বিশেষ অতিথি জনাব মমিনুল হক পুঁজিবাজারে তাঁর দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এবং কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, বৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড অ্যাগ্রিগেটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা থেকে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বিনিয়োগযাত্রা সহজ করে তুলেছে। এ উদ্যোগে বৃদ্ধির পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ইমরানুল গনি ফিরা, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফায়াজ হাসান, পার্টনারগণ হিসেবে ছিলেন আলবিন আহমেদ, ইমাম হোসেন, আবির বড়ুয়া ও মোহাম্মদ তাহসিন।
অন্যদিকে, এ আয়োজনে অংশীদার প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দেয়, যাতে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তাদের যাত্রা শুরু করা আরও সহজ হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মশালা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি দায়িত্বশীল বিনিয়োগ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।