প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (০৫ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে স্মৃতিচারণ, শ্রদ্ধাঞ্জলি, কবিতা আবৃত্তি ও বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার এবং রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ছিল প্রকৃতির বিচার। যখন অন্যায়, নিপীড়ন ও মানুষের মৌলিক অধিকার বারবার পদদলিত হয়, তখন ইতিহাস নিজেই পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই পরিবর্তনেরই এক ঐতিহাসিক অধ্যায়, যেখানে দেশের আপামর ছাত্র-জনতা সাহস, ত্যাগ ও ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান নিজের জায়গায় সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করলে আমাদের এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা আমাদের বিভাজন নয়, ঐক্যের শিক্ষা দেয়; প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচারের পথ দেখায়; হতাশা নয়, নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর প্রত্যক্ষ করা রক্তাক্ত স্মৃতিগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুদীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা, বাকস্বাধীনতা হরণ, অধিকার হরণ এবং নানা অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের দিনগুলো ছিল বেদনা, সাহস এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য ইতিহাস। আমি খুব কাছ থেকে সেই রক্তাক্ত বাস্তবতা দেখেছি। অসংখ্য তরুণের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে যে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার কখনো আপসের বিষয় হতে পারে না। ইতিহাসের এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির তাঁর বক্তব্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস আমাদের দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম এবং নৈতিক সাহসের শিক্ষা দেয়। এই চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লালন করতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম সত্যনিষ্ঠ, মানবিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সবসময় মুক্তবুদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী জুলাই যোদ্ধাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অজিতা চৌধুরী প্রমুখ। ‘প্রস্তাব : এই সংসদ জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের মূল অনুঘটক হিসেবে বিবেচনা করে’ শীর্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (পিইউডিএস)-এর বিতার্কিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ডিন, সহকারী ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও কো-অর্ডিনেটরবৃন্দ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
Related News
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে “মেন্টাল হেলথ ফেস্ট ২০২৬” অনুষ্ঠিত
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত
Wednesday, 5 August, 2026
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (০৫ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে স্মৃতিচারণ, শ্রদ্ধাঞ্জলি, কবিতা আবৃত্তি ও বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার এবং রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ছিল প্রকৃতির বিচার। যখন অন্যায়, নিপীড়ন ও মানুষের মৌলিক অধিকার বারবার পদদলিত হয়, তখন ইতিহাস নিজেই পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই পরিবর্তনেরই এক ঐতিহাসিক অধ্যায়, যেখানে দেশের আপামর ছাত্র-জনতা সাহস, ত্যাগ ও ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান নিজের জায়গায় সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করলে আমাদের এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা আমাদের বিভাজন নয়, ঐক্যের শিক্ষা দেয়; প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচারের পথ দেখায়; হতাশা নয়, নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর প্রত্যক্ষ করা রক্তাক্ত স্মৃতিগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুদীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা, বাকস্বাধীনতা হরণ, অধিকার হরণ এবং নানা অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের দিনগুলো ছিল বেদনা, সাহস এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য ইতিহাস। আমি খুব কাছ থেকে সেই রক্তাক্ত বাস্তবতা দেখেছি। অসংখ্য তরুণের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে যে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার কখনো আপসের বিষয় হতে পারে না। ইতিহাসের এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির তাঁর বক্তব্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস আমাদের দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম এবং নৈতিক সাহসের শিক্ষা দেয়। এই চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লালন করতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম সত্যনিষ্ঠ, মানবিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সবসময় মুক্তবুদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী জুলাই যোদ্ধাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অজিতা চৌধুরী প্রমুখ। ‘প্রস্তাব : এই সংসদ জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের মূল অনুঘটক হিসেবে বিবেচনা করে’ শীর্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (পিইউডিএস)-এর বিতার্কিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ডিন, সহকারী ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও কো-অর্ডিনেটরবৃন্দ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।